
আগামী নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ কিংবা ডিসেম্বরের প্রথম দিকেই দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর আগে তিনি সপরিবারে পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরব যেতে পারেন বলে দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। সৌদি আরব থেকে লন্ডন হয়ে তিনি ঢাকায় ফিরবেন।
দেড় যুগের বেশি সময় পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, দেশে ফেরার পর তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেবেন এবং জনগণের রায় পেলে দেশ পরিচালনার দায়িত্বও গ্রহণ করবেন।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, শিগগিরই তারেক রহমানের দেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হবে। এ প্রসঙ্গে দলের আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, “একজাক্ট দিন এখনো নির্ধারণ করা না হলেও নভেম্বরের শেষ বা ডিসেম্বরের শুরুতেই তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। দলীয় প্রস্তুতিও চলছে পুরোদমে।”
দলের আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “তারেক রহমানের দেশে ফেরায় এখন আর কোনো আইনগত বাধা নেই। তিনি যেসব মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন, সেগুলোর সবই নিষ্পত্তি হয়েছে। অধিকাংশ মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন, আর জরুরি অবস্থায় দায়ের করা মামলাগুলো বাতিল করা হয়েছে। এখন তিনি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে দেশে ফিরতে পারেন।”
এদিকে তাঁর দেশে ফেরাকে ঘিরে ব্যক্তিগত বাসভবন, রাজনৈতিক কার্যালয়, বুলেটপ্রুফ গাড়ি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম জানান, বুলেটপ্রুফ গাড়ির অনুমোদন ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে এবং আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর বলেন, “ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, দেশে ফেরার পর তারেক রহমান গুলশান-২-এর ১৯৬ নম্বর বাসভবনে অবস্থান করবেন—যে বাড়িটি ১৯৮১ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বেগম খালেদা জিয়াকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও চলছে ব্যাপক সংস্কার ও প্রস্তুতি। নয়াপল্টন কার্যালয়টি আধুনিকভাবে সাজানো হচ্ছে যাতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দলের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারেন। কার্যালয়ের সংস্কারকাজের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন দলের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক সংসদ সদস্য এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, “নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় আধুনিকতা আনা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের সঙ্গে কেন্দ্রের যোগাযোগ আরও গতিশীল হবে।”
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ইতিহাসে এটি হবে সবচেয়ে বড় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানগুলোর একটি। তারেক রহমানের দেশে ফেরা ঘিরে সারাদেশের নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

মহানগর প্রতিনিধি 









